পাচারকালে কেন্দুয়ায় ত্রাণের ৩৬ বস্তা  চাল জব্দ করল পুলিশ

পাচারকালে কেন্দুয়ায় ত্রাণের ৩৬ বস্তা  চাল জব্দ করল পুলিশ

মহসীন কেন্দুয়া  প্রতিনিধি ঃ বস্তা পরিবর্ত করে নেত্রকোনায় পাচারকালে ত্রানের ৩৬ বস্তা চাল (১ হাজার ৮ শ কেজি) জব্দ করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকা থেকে ৩৬ বস্তা চাল ও ৮৮টি ত্রানের চালের খালি বস্তা জব্দ করে। জব্দকালে চালক্রেতা উপজেলার বাদে আঠারোবাড়ি গ্রামের রুবেল মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ট্রলি ভর্তি চাল ও একটি মোটর সাইকেল (কিশোরগঞ্জ-হ ১২-৩৫৯০) উদ্ধার করে এবং ট্রলি চালক পৌর এলাকার সাউদপাড়া মহল্লার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সাগর মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সামছুদ্দিন আহম্মেদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, ওই চাল কোথা থেকে কে ক্রয় করেছে বা কোথায় পাচার হচ্ছিল এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। উদ্ধারকৃত চালের বিষয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। তবে ট্রলির চালক সাগর মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, ৩৬ বস্তা চাল নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে লিয়াকত আলীর বসত বাড়ি থেকে ট্রলি ভর্তি করে নেত্রকোনায় নিয়ে যাচ্ছিল রুবেল ও তার এক সহযোগী। রোববার উপজেলা নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ১০ কেজি করে বিনামূল্যে ত্রানের চাল সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরন করা হচ্ছিল। অনেকেই বলছেন, ওই চাল প্রকৃত গ্রহীতাদের না দিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন শুধু কাগজে কলমে দেখানো গ্রহীতারা চাল বাড়িতে না নিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের জব্দ করা চাল ত্রানের চাল কিনা তা আমি জানিনা। শুনেছি রাস্তা থেকে পুলিশ একটি ট্রলি ভর্তি ৩৬ বস্তা চাল জব্দ করেছে। ওই  চাল ত্রাণের না ব্যাবসায়ীদের তা আমার জানা নেই। আমি গতকাল রোববার বিনামূল্যে জিআর চাল প্রতিজনে ১০ কেজি করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে সুষ্ঠু ভাবে বিতরন করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, জব্দকৃত চালের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে ওই চাল কে বা কারা বিক্রি করেছিল, কার কাছে করেছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তদন্ত শেষে সরকারী কোন কর্মসূচির চাল হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।