খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর ভাঙনে  প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন !

 খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর ভাঙনে  প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন !

নেত্রকোনা থেকে এ কে এম আব্দুল্লাহ্ ঃ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সৃষ্ট বড় বড় ঢেউ আর প্রবল ¯্রােতের কারণে ধনু নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় গত পাঁচ দিনে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের ৫৭টি পরিবারের সমস্ত ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 
         স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানসহ চরপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন জানান, গাজীপুর ইউনিয়নের  চরপাড়া গ্রাম ঘেঁষে বয়ে গেছে খর¯্রােতা ধনু নদী। বর্ষার এ মৌসুমে নদীর বাড়ন্ত পানির প্রবল স্রোতে রোববার সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গ্রামটির কামাল মিয়া, বকুল মিয়া, সামছু মিয়া, ফুল মিয়া, সাজু মিয়া, আলী উসমান, সুলেমান মিয়া, ফারুক মিয়া, হেলাল মিয়া, হেকিম মিয়া, মালেক মিয়া, মাসুক মিয়া, খালেক মিয়াসহ ৬৭টি পরিবারের ভিটে বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 
        এছাড়াও বিগত কয়েক মাস আগে ধনু নদীর অব্যাহত ভাঙনে গ্রামের আরো প্রায় অর্ধ-শতাধিক ঘরবাড়ি নিচিহ্ন হয়ে যায়। গ্রামবাসীর আশংকা, ধনু নদীর অব্যাহত ভাঙন অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে প্রায় ৬শ পরিবারের পুরো গ্রামটিই ক্রমান্বয়ে নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে। 
        স্থানীয় লোকজন জানান, ধনু নদী খুব বেশী গভীর ও খরস্রোতা হওয়ায় ওই নদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোধ করা প্রায় অসম্ভব। তাই গ্রামটিকে রক্ষার জন্য নদীর স্রোতধারা খননের মাধ্যমে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে হবে। গ্রামটির কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে হাওরে (অধিকাংশই বিল এলাকা) তিন-চার কিলোমিটারের মতো খনন করলেই একদিকে গ্রামটি যেমন রক্ষা হবে, অন্যদিকে এ নদীকে ঘিরে প্রতিনিয়ত লঞ্চ, কার্গো চলাচল করা নৌ-পথের একটি বড় বাঁকও সোজা হবে।
       এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নদী ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন,  নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড গ্রামবাসির সঙ্গেঁ একমত হয়ে গ্রাম থেকে দূরে পানি প্রবাহের লক্ষ্যে নদী খনন করতে  ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এ প্রস্তাবে খালিয়াজুরীর কৃতি সন্তান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সুপারিশও রয়েছে।              তিনি আরো জানান, নদী ভাঙনে নিঃস্ব পরিবার সমূহের স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে একটি গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণের জন্য উপর মহলে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম আগামী রবিবার ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে কথা বলবেন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন।