চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে কেন্দুয়ার নিজাম খামারীর দুগ্ধবতী গাভী

চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে কেন্দুয়ার নিজাম খামারীর দুগ্ধবতী গাভী

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া, প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ ও নিজের প্রাইভেট গাড়ী স্বাভাবিক চলাচল করতে না পারায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে নিজাম খামারীর দুগ্ধবতী গাভীগুলো। ফলে গোখাদ্য সংগ্রহে ভিষন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন নিজাম। নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের পাছহারুলিয়া গ্রামে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশে নিজ বাড়ি প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা করেন গাভীর খামার। ১২টি গাভী নিয়ে খামার পরিচালনা শুরু করলেও বর্তমানে দুটি গাভী গর্ভবতী এবং ১০টি গাভী দোহন করতে পারছেন। খামারের মালিক নিজামুল করিম জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুধ বিক্রি করে সফলতার মুখ দেখলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি দেখা দিলে মিষ্টির দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাইকাররা দুধ নিতে আসেনি। সপ্তাহ খানেক ১০টি গাভীর দুধ দোহন করে পাড়া প্রতিবেশির মধ্যে বিলিয়ে দেবার পর বাকি দুধ খালে ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে ১০টি গাভী থেকে ৫০ লিটার দুধ দোহন করতে পারেন। খাদ্য সংকটের ফলে দুধ কমে এসেছে, তাছাড়া দুধের দাম এতদিন ছিল ৩০ টাকা লিটার। এখন রমজান দেখা দেওয়ায় চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। নিজামুল করিম জানান, ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে গাভী ক্রয় সহ খামারের ঘর তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি অনেক দিন চলতে থাকলে তাকে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। খামার তদারকি করার জন্য শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়াও কষ্ট হয়ে দাঁিড়য়েছে। বিশেষ করে সোয়াবিনের খৈল জাতীয় খাবার ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ছাড়া আশে পাশে কোথাও পাওয়া যায়না। কিন্তু গণ পরিবহন না থাকায় গোখাদ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। তার নিজের প্রাইভেট গাড়িটি দিয়ে এতদিন ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে গোখাদ্য সংগ্রহ করতেন। সেই গাড়িটিও উপজেলা প্রশাসন আটকে রেখেছে। গোখাদ্য সংকটের ফলে এখন তিনি চোখে সরষেফুল দেখছেন। তিনি আগামী দিনগুলোতে খামার পরিচালনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট প্রনোদনা দাবী করেন, একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কাছে শুধুমাত্র গোখাদ্য সংগ্রহের জন্য তার নিজের প্রাইভেট গাড়িটি স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের অনুমতি দেয়ার আবেদন জানান নিজাম।