কেন্দুয়ায় চাষের আওতায় আনা হবে সব জমি

কেন্দুয়ায় চাষের আওতায় আনা হবে সব জমি

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া, প্রতিনিধি :করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ঘাটতি যাতে না হয় সে জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ধান ও ধানের বিকল্প শাক সবজী চাষ করে চাষের আওতায় আনবে সব জমি। এক ইঞ্চি জমিও যাতে পতিত না থাকে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে সফলতা আনতে চান কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে কৃষকদের প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আহবান জানিয়ে আউশ ধান চাষাবাদে উদ্যোগী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। এতে বলা হয় আউশ ধান চাষে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয়না। রোগ বালাই ও পোকা মাকরের আক্রমন কম এবং স্বল্প মেয়াদি। কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনিছুজ্জামান আউশ ধানের যে জাতগুলো চাষ করতে পরামর্শ দিয়েছেন এগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৪৮ জীবনকাল ১শ ১০ দিন, কাঠায় ফলন ৫/৬ মন। ব্রি ধান ৮২ জীবনকাল ১শ ২ দিন, কাঠায় ফলন ৪.৫৫ মন, ব্রি ধান ৮৫ জীবনকাল ১শ ৭ দিন কাঠায় ফলন ৪.৫ মন, ব্রি ধান ১৯ জীবনকাল ৯৫-১০৫ দিন, কাঠায় ফলন ৪.৫ মন। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজী ও মসলা চাষেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে উঁচু জমিগুলোতে। এর মধ্যে রয়েছে বারি বেগুন-১, ২, ৩ জীবনকাল ১৮০ থেকে ৯০ দিন, কাঠায় ফলন ৪৫-৫০ মন। বারি ঢেরস -১ জীবনকাল ১৫০ দিন, কাঠায় ফলন ১৪-১৬ মন। বারি টমেটো -৪, ৫, ৬, ১০ জীবনকাল ১০০-১১০ দিন, কাঠায় ফলন ৪৫-৫০ মন। বারি মরিচ -২, কাঠায় ফলন ২০-২৫ মন। বারি শিম -১, ২, জীবনকাল- ১৯০-২১০, কাঠায় ফলন ১০-১২ মন। বারি গিমা কলমি শাক-১, কাঠায় ফলন ৪০-৫০ মন। বারি লাল শাক- ১ জীবনকাল ২০-২৫ দিন কাঠায় ফলন ৫-৬ মন। লতিরাজ কচু জীনকাল ১৮০-২১০ দিন, কাঠায় ফলন ২৫-৩০ মন। মুকি কচু (বিলাসী) জীবনকাল ২১০-২৮০ দিন,  কাঠায় ফলন ২৫-৩০ মন। শশা (আলাবি, অলরাউন্ডার-২) জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন কাঠায় ফলন ৪০-৫০ মন। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে যাতে খাদ্য ঘাটতি না হয় সে লক্ষ্যে কৃষকদের এসব পরামর্শ দিয়ে লিফলেট এবং মাইকে প্রচারনা চালিয়েছে, বর্তমানে বোরো ধানে ব্লাষ্ট রোগের অনুকুল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এই অবস্থায় ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে প্রতি কাঠায় ১.৫-২ কেজি হারে এমওপি/পটাশ সার প্রয়োগ করার আহবান জানিয়েছেন। তাছাড়া জমিতে ১-২ ইঞ্চি পানি ধরে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন। জমিতে রুগের আক্রমন দেখা দিয়ে প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ট্রপার ১২ গ্রাম অথবা ফিলিয়া ৩২ মিলিগ্রাম অথবা নাটিবু ১০ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রতি ৭.৫ শতাংশ জমিতে ৭ দিন অন্তর অন্তর ২ বার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান। এ পরামর্শ এলাকায় ব্যাপকভাবে মাইকিং করে প্রচারনা চালানো হয়েছে, বিতরন করা হয়েছে লিফলেটও।