গড়াডোবা আব্দুল আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শিক্ষক শামছুদ্দিন মাষ্টারের দাফন সম্পন্ন

গড়াডোবা আব্দুল আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শিক্ষক শামছুদ্দিন মাষ্টারের দাফন সম্পন্ন

মো: জায়েজুল ইসলাম: নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক (অব:) শামছুদ্দিন মাষ্টারের দাফন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সম্পন্ন হয়েছে। গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গড়াডোবা ইউনিয়নের গড়াডোবা গ্রামের পারিবারিক কবর স্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তিনি বার্ধক্য জনিত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নাল্লিাহে ওয়া ইন্নাইলাহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ৫পুত্র, ৩ কন্যা, আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও আজকের আরবানের বার্তা সম্পাদক মো: জায়েজুল ইসলামের শশুর।  মরহুম শামছুদ্দিন মাষ্টার কর্মজীবনে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের প্রথমে তিনি ময়মনসিংহ জেলার নাসিরাবাদ কলেজিয়েট স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সেখান থেকে কেওয়াটখালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তারপর চরখরিচা উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা জেলার দক্ষিন বিশিউড়া  উচ্চ বিদ্যালয়, গন্ডা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, রওশন ইজদানী একাডেমি, বিদ্যাবল্লব, এ বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষকেরর দায়িত্ব্ পালন করেন। শেষে নিজ জন্মস্থান গড়াডোবা গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেন গড়াডোবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদালয়। শেখান থেকে শিক্ষককতা শেষে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০০৯ সালে ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি, রাজনীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৭৩সালে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবং ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ১৯৯৯ সালে নেত্রকোনা জেলায় সর্বপ্রথম তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু করেন। শিক্ষকতা জীবনের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কেন্দুয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন।  তাছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে সারা বাংলাদেশের সম্মিলিত একটি বিশেষ প্রোগ্রামে বক্তব্য রেখে বিশেষ পুরস্কারে ভুষিত হন।
অবসর জীবনে তিনি শামছুদ্দিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মো: রফিকুল ইসলাম বায়েজিদকে নিয়ে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানগুলি হলো তাবিউল মুরছালিন নগর কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ, নাজমা বায়েজিদ একাডেমি, রফিকুল ইসলাম বায়েজিদ আদর্শ একাডেমি, রাবেয়া শামছুদ্দিন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাবিউল মুরছালিন নগর কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ ইতি মধ্যে এমপিও ভুক্ত হয়েছে। তার পরিবারের লোকজন মরহুমের জন্য পরকালীন মুক্তি কামনা করে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদায় আসীনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।