মোহনগঞ্জে যৌতুক দাবীতে গৃহবধূকে আগুণে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা ঃ স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

মোহনগঞ্জে যৌতুক দাবীতে গৃহবধূকে আগুণে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা ঃ স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোণা ঃ যৌতুকে দাবিতে ফাতেমা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্বামী জুলফিকার আলী (৩০) সহ তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে মোহনগঞ্জ উপজেলা বরকাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে।
       মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, মোহনগঞ্জ উপজেলার বরতলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের করণশ্রী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সুরুজের ছেলে জুলফিকার আলীর সাথে প্রায় ২ বছর আগে একই উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের মাওলানা হোসাইন আহম্মেদের মেয়ে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বামী জুলফিকার আলী তার স্ত্রী ফাতেমাকে বাবার বাড়ি থেকে তাকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। স্ত্রী ফাতেমা বাবার বাড়ি থেকে এত টাকা যৌতুক এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন। স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অমানসিক অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী ফাতেমা প্রায় বছর খানেক আগে বাবার বাড়িতে গিয়ে তিনি তার বাবা মাসহ পরিবারের লোকজনদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফ্রিজ-টিভি কেনার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে তার স্বামীকে দেন। টাকা পেয়ে প্রায় মাস দু’য়েক সময় নিরব থাকেন যৌতুকলোভী স্বামী জুলফিকার। এরপর বাবার বাড়ি থেকে বাকি ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য জুলফিকার তার স্ত্রী ফাতেমার উপর পূনরায় অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। কিন্তু স্ত্রী ফাতেমা বাবার বাড়ি থেকে আর কোনো টাকা এনে দিতে পারবেন না বলে তিনি তার স্বামী জুলফিকারকে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর থেকেই জুলফিকার তার স্ত্রী ফাতেমার উপর শারীরীক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন। এক পর্যায়ে ফাতেমা স্বামীর নিযাতন সইতে না পেরে গত প্রায় সাত মাস আগে তিনি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং তখন থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে স্বামী জুলফিকার শ্বশুড় বাড়িতে গিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে কথা বলার জন্য বাড়ির সামনে ডেকে আনেন এবং তারা দু’জনে মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে স্বামী জুলফিকার তার সাথে করে নিয়ে আসা একটি কেরোসিনের বোতল স্ত্রী ফাতেমার গায়ে ঢেলে আগুণ ধরিয়ে দিয়ে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় ফাতেমার আত্ম-চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দ্রæত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
      এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমি হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধুর খোঁজ খবর এবং ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধূর পিতা মাওলানা হোসাইন আহম্মেদ বাদি হয়ে বুধবার সকালে মেয়ের জামাই জুলফিকার আলীসহ তার পরিবারের চারজনকে আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জুলফিকার আলীসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।