মদনে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, প্রতারক চক্র উধাও

মদনে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, প্রতারক চক্র উধাও

মদন  (নেত্রকোনা)প্রতিনিধি ঃ  নেত্রকোনার মদনে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার সমাজকর্মী পদে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে  হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে  একটি প্রতারক চক্র।  নিঃস্ব হয়ে গেছে গ্রামের সহজ সরল হতদরিদ্র পরিবার।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতারক চক্রটি ফাঁদে পেলার জন্য ২৩-২৫ নভেম্বর  ফতেপুর ইউপি কার্যালয়ে ১২ সমাজকর্মীকে তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। সুকৌশলে প্রতারক চক্রটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে  ২৫ নভেম্বরেই উধাও হয়ে যায়। প্রশিক্ষানার্থীরা ইউপি কার্যালয়ে দিনভর অপেক্ষা করে চক্রটির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের কাছ থেকে গোপনে ২৫ হাজার টাকা করে নেয়ার বিষয়টি একে অপরের নিকট প্রকাশ করে।  এতে সবাই প্রতারণার স্বীকার হয়েছে বুঝতে পেরে    হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় এবং ঘটনাটি তারা ইউপি চেয়ারম্যানকে অবগত করে।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার ফতেপুর ইউনিয়নে সরজমিনে গেলে প্রতারণার স্বীকার রুজিনা,আখি আক্তার, রুবিনা, প্রিয়া ও আন্তার সাথে দেখা হলে এ প্রতিনিধিকে জানান,সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত যার নং ২০৮/০৩ ইং চুয়াডাঙ্গা,পুরাতন জেলখানা রোড,সদর  জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বরাবর সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়ার চিঠি পাঠায়। এর কয়েকদিন পর ওই সংস্থার পশু চিকিৎসক ডাঃ হাবিবুর রহমান,সহকারি পশু চিকিৎসক ইমব্রোল হাসান নামের দুই ব্যাক্তি ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে আলোচনা করে ১২ জন তরুনীকে সমাজকর্মী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। আমাদেরকে ২৩-২৫ নভেম্বর ৩ দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ইউপি কার্যালয়ে। এ সময় প্রত্যেক সমাজকর্মীর বেতন ৫ হাজার ৪শত টাকা ও দুই উপজেলার একজন সুপারভাইজারে বেতন ২৫হাজার৪শ টাকা করে দেয়া হবে বলে প্রতারক চক্রটি ঘোষনা দেন। এ চাকরী পাওয়ার জন্য সবাই উদগ্রীব হয়ে উঠে।

 চাকরী পাওয়ার জন্য  দুই কর্মকর্তার সাথে গোপনে  যোগাযোগ  করলে বসকে খুশী করতে মোবইল নম্বর ০১৭৩৯-৩৭৩৫১১ ও বিকাশ নম্বর ০১৮১৮-১৫৯০৪০ হাতে ধরিয়ে দেয়। সোনার হরিণ চাকরি পাওয়ার জন্য ৪জন প্রার্থী পৃথক ভাবে ২৫ হাজার টাকা করে ডাঃ হাবিবুর রহমান নামের প্রতারকের হাতে ধরিয়ে দেয়। বাকি ৮ প্রার্থী প্রত্যকেই ২৫ হাজার টাকা করে পৃথক ভাবে ওই বিকাশ নম্বরে প্রেরণ করে। হাসঁ মুরগীর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন ২৫ নভেম্বর তাদের নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও প্রশিক্ষণ না দিয়েই  ওই দিন থেকেই তারা উধাও হয়ে যায়।   

ভুক্তভোগী  আখিঁর পিতা এমদাদ কাজী ,আন্তার পিতা আজমান ভূইঁয়া  ও রুজিনার ভাই মাসুদ বাঙ্গালী জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চিঠিতে অবগত হয়ে   বিশ্বাস করে  আমাদের মেয়েদেরকে পরিষদে  পাঠিয়ে ছিলাম তাদের কাছে। আমরা প্রত্যেকে ঋন করে ২৫ হাজার করে টাকাও দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশিক্ষণের শেষদিনইে টাকা নিয়ে তারা উধাও হয়ে গেছে। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোন খোঁজ খবর পাচ্ছি না। এখন বুঝতে পারছি আমরা প্রতারণার স্বীকার হয়েছি। আমরাসহ ১২টি পরিবার এই প্রতারণার ফাঁদে পরে খুবই কষ্টে আছি। ঋন পরিশোধ করব কিভাবে ?   বিষয়টি  ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে অবগত করেছি।  

ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান,জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ করবে বলে ১৪ নভেম্বর আমাকে একটি চিঠি দেয়। ১২ তরুণীকে  সমাজকর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। তবে তাদের নিটক থেকে গোপনে যে ২৫ হাজার টাকা করে নেয়ার বিষয়টি  প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা কেউই আমাকে অবগত করেনি। প্রতারক চক্রটি উধাও হয়ে গেলে আমি টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে পারি।   এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের  উপ-পরিচালক মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার নামে কোন রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত সমিতি নেই। এটি মূলত ভুয়া। আপনারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিন।