টাকা না দিলে লাইন নির্মান ও সংযোগও হবে না

টাকা না দিলে লাইন নির্মান ও সংযোগও হবে না

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ   টাকা না দিলে পল্লী বিদ্যুতের লাইনও নির্মান হবেনা, সংযোগও দেয়া হবে না। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বি.এন.পির একটি দালালচক্র এক জুট হয়ে কৃষক পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে গ্রামের অর্ধশতার্ধিক পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ২ লক্ষাধিক টাকা। এ ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের মাসকা (মধ্যপাড়া) গ্রামে। বেশ কয়েক মাস আগে টাকা দেয়ার পরও যথা সময়ে পুরোপুরি কাজ না হওয়ায় সাধারন কৃষকরা ক্ষোভে দুঃখে ফুঁসে উঠছেন। তারা তাদের কাছ থেকে গ্রামের এই দালাল চক্রটি বিদ্যুতের লাইন নির্মান, সংযোগ ও মিটার স্থাপনের কথা বলে ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরছেন।
    গ্রামবাসীর পক্ষে ওই গ্রামের বাসিন্দা মাসকা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সুমি আক্তার গত ১৪ নভেম্বর নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন ওই গ্রামে বিদ্যুতের যে লটটির কাজ শুরু হয়েছিল লট নাম্বার ৪০২৮। মেসার্স মোশারফ হোসেন ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামীলীগের লিটন ও বি.এন.পির রিপন ও সঞ্জু মিয়া বিদ্যুতের লাইন নির্মান সংযোগ ও মিটার স্থাপনের কথা বলে প্রতি পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়। সুমি জানান, ৮৫টি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার দেয়ার কথা বলে, ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়েও তারা কাজটি শুরু করে থেমে যাওয়ার পর কৃষকরা আমাদের কাছে এ কথা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে বি.এন.পির রিপন ও সঞ্জু মিয়ার সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আমরা কোন টাকা পয়সা নেই নি। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা লিটন মিয়া এসব কাজ শেষ করার জন্য টাকা নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ নেতা লিটন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নেত্রকোনার ঠিকাদার মোশাররফ হোসেনকে লাইন নির্মান, সংযোগ ও ওয়ারিং করার জন্য ইতিমধ্যে ৮০/৯০ হাজার টাকার মতো দেয়া হয়েছে। ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হারেছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন ও সংযোগের জন্য কাউকে ১ টাকাও দিতে হবে না। কিন্তু ঠিকাদার স্থানীয় একটি দালাল চক্রের যোগসাজসে মাসকা গ্রামের প্রায় ৮৫টি পরিবারের কাছ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে গেছে। তিনি বলেন এই জন্য কী যুদ্ধ করেছিলাম? ঠিকাদার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে টাকা দেয়ার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে তিনি বলেন, লাইন নির্মান সংযোগ ও মিটারের জন্য কোন টাকা পয়সা আমাকে দেয়া হয়নি। ৮৫টি পরিবারে মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে ওয়ারিংয়ের মালামাল ক্রয়ের জন্য দোকানদারকে টাকা দেয়া হয়েছে। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুমি আক্তার নামে এক নেত্রী নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরারব একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেনারেল ম্যানেজার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি অভিযোগটির বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। তদন্ত শেষে অভিযোগের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।