কেন্দুয়ায় ৪ সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সহ ৫৪ শিক্ষকের পদ শূন্য ঃ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

কেন্দুয়ায় ৪ সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সহ ৫৪ শিক্ষকের পদ শূন্য ঃ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে বেহাল দশা বিরাজ করছে। ৪ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সহ ২৫ প্রধান শিক্ষক এবং ২৯ সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এ বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করলেও প্রতিকার মূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক জানান, ১টি পৌরসভা সহ ১৩ টি ইউনিয়নে মোট ১শ ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি ও নিয়মিত স্কুলে আসা যাওয়া করছে কিনা তা তদারকি করতে ৭ জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে। কিন্তু ৭ টি পদের মধ্যে ৪টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তাছাড়া ২৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২৯টি সহকারি শিক্ষকের পদও পূরণ করা হচ্ছে না। অফিসের দাপ্তরিক কর্মকান্ড সম্পাদন করার জন্য ইউডিএ দুটি এবং অফিস সহকারি একটি সহ ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। ছাত্র অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই কতিপয় শিক্ষক শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত পাঠদান না করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দলের পদপদবী নিয়ে সে সব কর্মকান্ডেই ব্যস্ত থাকেন বেশি। যে কারনে এই উপজেলার প্রায় ৩৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই সুষ্ঠু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তারা না পাচ্ছে সুষ্ঠু পাঠদান এবং না পাচ্ছে তদারকি। শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ৪ সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সহ ৫৪ জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় লেখাপড়াতো কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছেই। তবে এসব পদ পূরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বার বার চিঠি লিখা হচ্ছে। কিন্তু তেমন কোন প্রতিকার হচ্ছে না। শূন্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল্লাহ সমকালকে বলেন, শূন্যপদ থাকা প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটছে। তবে গত ২৩ জুলাই নেত্রকোনায় উদ্ভুদ্ধ করণ সভায় এসেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এই সভায় তাদেরকে শূন্য পদের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের বাজেট সভায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের শূন্য পদের বিষয়টি সভার রেজুলিউশনে ওঠেছে। খুব তাড়াতাড়ি শূন্যপদ পূরণের জন্য মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের আরেকটি চিঠি দেব।