বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কেন্দুয়ায় দুই নারীকে ধর্ষণ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কেন্দুয়ায় দুই নারীকে ধর্ষণ

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোণা কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই নারীকে পৃথক পৃথক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বি.এস.সি শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষিতা নারী নিজেই বাদী হয়ে শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামল তার স্ত্রী ও বোনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখনও কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় বসে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে দেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান এর সতত্যা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন তিনি। ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার তাঁতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও নেত্রকোণা কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বি.এস.সি শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামল। কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৫ অক্টোবর ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রী। এদিকে মদন উপজেলার এক গার্মেন্টস শ্রমিককে  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে কেন্দুয়া উপজেলার তুরুকপাড়া গ্রামের কেনু মিয়ার ছেলে নবী মিয়া ওরফে রবি। তাকে সহায়তা করে রাজিবপুর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে সুজন মিয়া ও শেওরা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে রবিকুল। নবী মিয়া ওই যুবতীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ওই যুবতীকে বিয়ের রেজিষ্ট্রির কথা বলে রাজিবপুুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ভ‚য়া রেজিষ্ট্রি ফরম ওই যুবতীর হাতে তুলে দিয়ে তাতে স্বাক্ষর করার কথা বলে। পরে চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে ধর্ষন করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে নবী মিয়া, সুজন মিয়া ও রবিকুলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ৩১ অক্টোবর কেন্দুয়া থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে দুটি মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী। তিনি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। গার্মেন্টস কর্মী ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই ছামেদুল হক জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে একই সঙ্গে আসামী গ্রেফতারেরও চেষ্টা চলছে।