স্বপ্ন পূরণ হলো হুমায়ুন আহমেদের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠের ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের

স্বপ্ন পূরণ হলো হুমায়ুন আহমেদের শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠের ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃনন্দিত কথা সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যের কলম জাদুকর হুমায়ুন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ছাত্র-শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা দিন ঢাক-ঢোল পিঠিয়ে হোলি খেলে ও মিষ্টি বিতরন করে আনন্দ উল্লাস করেছে মনের আনন্দে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এম.পিও ভ‚ক্তির দাবী ছিল দীর্ঘ দিনের। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবনে ঘোষনার মধ্য দিয়ে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ এম.পিও ভ‚ক্তি হলো। এম.পিও ভ‚ক্তি হওয়ায় ঢাক-ঢোল পিঠিয়ে, মিষ্টি বিতরন করে এবং ছাত্র-শিক্ষকরা হোলি খেলার মধ্য দিয়ে আনন্দ উল্লাস করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পদাক নেত্রকোনা-৩ আসনের এম.পি অসীম কুমার উকিলের প্রতি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ১৯৯৬ সালে হুমায়ুন আহমেদ এর জন্মস্থান নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর সহ দেশের সনামধন্য তারকা শিল্পীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে হুমায়ুন আহমেদ ঘোষনা দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সম্পূর্ণ বিজ্ঞান মনষ্ক চিন্তা চেতনায় তার ব্যক্তিগত অর্থে গড়ে তুলেন শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। যাতে গ্রামের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের শহরে গিয়ে লেখাপড়া না করে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে লেখাপড়া করে বিজ্ঞান মনষ্ক চিন্তা চেতনায় এগিয়ে যেতে পারে। এ লক্ষে ২০০৬ সালে শুরু হয় এর একাডেমিক কার্যক্রম। ২০১১ সালে নি¤œ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১২ সালে কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে এই বিদ্যালয়ে আসেন। সম্পূর্ন বিজ্ঞান মনস্ক চিন্তা চেতনায় গড়ে ওঠা ওই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সেদিন শিক্ষা সচিব পরিদর্শন খাতায় হুমায়ুন আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বিদ্যালয় থেকে ঘুরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আরো জানান, অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনা-৩ আসনের এম.পি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ৩ দিন পরিদর্শনে আসেন। প্রথম দিন পরিদর্শনে এসেই তিনি ঘোষনা দিয়েছিলেন যদি একটি বিদ্যালয়ও এম.পিও ভ‚ক্তি হয়, সেক্ষেত্রে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ এম.পিও ভ‚ক্তির তালিকায় উঠবে। সেদিন এম.পি অসীম কুমার উকিল হুমায়ুন আহমেদের সহোদর ড. জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে এম.পিও ভ‚ক্তির কথা বলেছিলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষার (এস.এস.সি) প্রতিটি ফলাফলে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। জি.পি.এ ৫ পেয়েছে অনেকেই। হুমায়ুন আহমেদ এর অবর্তমানে তার পতিœ মেহের আফরোজ শাওন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা দিয়ে আসছিলেন। বিদ্যালয়টি এম.পিও ভ‚ক্ত হওয়ায় হুমায়ুন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বপ্ন পূরন হলো।