কলমাকান্দায় যুবলীগ নেতার চেম্বার ভাংচুর, আহত ১

কলমাকান্দায় যুবলীগ নেতার চেম্বার ভাংচুর, আহত ১

খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা ঃ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে অসদাচরণের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যক্তিগত চেম্বার ভাংচুর হয়েছে। যুবলীগ সমর্থক সেলিমকে পিটিয়ে আহত করেছে চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকরা। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বিশ্বাসের সাথে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমসহ কয়েক যুবকের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে পলাশ বিশ্বাসকে তারা মারধর করে। এ পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পলাশ বিশ্বাস বাদী হয়ে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কলমাকান্দা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক ছাত্রনেতা জালাল উদ্দিন রুমীর ছেলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি, কলমাকান্দা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ভাতিজা জামান মিয়া ও যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় দ্রæত বিচার আইনে মামলা করেন। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বুধবার ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া, সেলিম মিয়া জামিনে ছাড়া পায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে কলমাকান্দা প্রেস ক্লাবে চন্দন বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বসে আলাপ করছিলেন। এ সময় ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া সাংবাদিকদের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এ সময় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। বিষয়টি এ কথা চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজিত লোকজন সেলিম মিয়ার ওপর চড়াও হয়। এ সময় সেলিম দৌড়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বারে আশ্রয় নেয়। চন্দন বিশ্বাসের ভাই তমু বিশ্বাসের নেতৃত্বে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা সেখানে তাকে বেধরক মারপিট করে। এ সময় এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বার ভাংচুর করা হয়। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা সদরে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 কলমাকান্দা উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পলাশ বিশ্বাসের সাথে কি হয়েছে আমার জানা নেই। ওই সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমাকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।
 কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
 কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল করিম জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।