মদনে মুক্তিযোদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

মদনে মুক্তিযোদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

মদন  (নেত্রকোনা )প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনার মদনে দুলাল মিয়া  (৬৫) নামের এক মুক্তিযোদ্ধা ও (অব) পুলিশ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে  খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে শয়ন কক্ষ থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় ও বুকে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।  বাড়ির বারাান্দার গ্রিল ও শয়ন কক্ষের দড়জা  খোলা ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার এশার নামাজ পড়ে নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মিয়া।  পরিবারের অন্য কোন সদস্য  বাড়িতে না  থাকায় রোববার দুপুরেও ঘুম থেকে না উঠায় কাজের মেয়ে শিল্পী আক্তার জানালা দিয়ে তাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এতে কোন সাড়া না পেয়ে পাশের বাড়ির লোকজনকে ঘটনাটি অবগত করেন। এতে লোকজন এসে শয়ন কক্ষে তার কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থলে পৌঁছে মুক্তিযোদ্ধা দুলালের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  তবে তার গলায় ও বুকে আঘাতের চিহৃ থাকায় স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে সন্দেহ হয়। পুলিশ বিষয়টি পুলিশ সুপার ও  সি আই ডির ফরেন্সি বিভাগকে খবর দেয়।

কাজের মেয়ে শিল্পী আক্তার জানায়, আমি উনাদের বাড়িতে ১০ বছর থেকে আছি।  স্মৃতি  খালাম্মা মেয়েকে নিয়ে নেত্রকোনায় চলে গেলে শনিবার আমি উনাকে রাতের খাবার খাওয়াই।  রোববার দুপুরেও ঘুম থেকে না উঠায় জানালা দিয়ে বার বার ডাকাডাকি করি। না উঠায় বিষয়টি পাশের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়।

নিহতের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার জানায়, আমার মেয়ের সিজারে সন্তান  হওয়া  আমি নেত্রকোনায়   চলে যাই। দুপুরে এ খবর শোনে বাড়িতে চলে আসি। আমার ঘর ছাড়া চারদিকেই শত্র ‍ু। আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

ওসি মোঃ রমিজুল হক জানান, মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করি। যে কক্ষে উনার মৃত্যু হয়েছে সেই রুমের দরজা ও বারান্দার গ্রিল খোলা ছিল। তার গলায় ও বুকে আঘাতের চিহৃ থাকায় এটি হত্যা কান্ড বলে সন্দেহ হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ও সি আইডি ফরেন্সি বিভাগের লোকজন অবগত করা হয়েছে।  তাদের মতামতের ভিত্তিতে লাশ ময়না তদন্ত করে  অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
 নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়ালীউল হাসান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালিয়াজুরী সার্কেল জামাল উদ্দিন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত লাশ তার  পুলিশ হেফাজতে শয়ন কক্ষেই পড়ে রয়েছে।