জুতা পালিশ করেই দুঃখে জীবন চলে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকেরা

জুতা পালিশ করেই দুঃখে জীবন চলে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকেরা

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ॥

জুতা পালিশ ও মেরাতম করেই খুব দুঃখে কষ্টে জীবন চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকদের। সকাল থেকে সারা দিন নিজেদের পেশায় জড়িয়ে জুতা পালিশ ও মেরামত করে বিভিন্ন পেশার লোকদের পোশাকের যেভাবে সুন্দর্যের রূপ দেন, ঠিক তেমনি ভাবে সামান্য আয় রোজগারের পয়সায় তাদের সংসার সুন্দর ভাবে পরিচারনা করতে পারেন না। রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে সারাক্ষন ধুলো বালি গাঁয়ে মেখে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। জানতে চাইলে তাদের মুখ থেকে ফুটে ওঠে মানবেতর জীবন যাপনের কথার মালা। ওই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রবিদাস সম্প্রদায়ের আর্থিক উন্নয়নের জন্য গত কয়েক বছর আগে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগে সমিতি গঠন করলেও এর তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। কেন্দুয়া উপজেলা সদরে রবিদাস সম্প্রদায়ের ২০-২৫টি পরিবার প্রতিদিন জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটের সামনে, পেছনে এবং ডাক বাংলোর সামনে বসে জুতা পালিশ ও মেরামত করে। ১০ টাকা ১৫ টাকা ও ২০ টাকার করে একেক জনের কাছ থেকে কাজের বিনিময় নিয়ে সারাদিন ২ থেকে ৩ শ টাকা রোজগার করে। কিন্তু এ রোজগার দিয়ে তাদের জীবন সংসার পরিচালনা করা খুবই কষ্ট হয়। পরিবারের ভরন-পোষন মিটিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সহ বিভিন্ন উৎসব পর্বে তাদের ভাগ্যে জুটেনা ভালো পোশাক ও ভালো খাবার। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনে তেমন কেউ এগিয়েও আসেনি। অবহেলা বঞ্চনার শিকার হয়ে রাস্তার পাশেই তারা যাযাবরের মতো একটি কাঠের বাক্স নিয়ে সাহেবদের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন্দুয়া পৌর শহরের বাসিন্দা রঙ্গলাল, রামলাল ও উপজেলা মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামের বাসিন্দা অনিল, সুনিল, গণেশ, হুলচান, গেন্ডু ও জগদীস রবিদাস সহ ১৫-২০ জন প্রতিদিনই জুতা পালিশ সেলাই ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকে। বুধবার তারা জানান, তাদের বাপ দাদারাও এখানে বসেই কাজ করেছেন। পৌর শহরের বৃদ্ধ রামলাল রবিদাস জানান, তার নিজস্ব একটি বাপের জায়গা ছিল, মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে সেটুকুও বিক্রি করে দিয়েছেন। এই কাজ ছাড়া অন্য কাজও করতে পারেন না তিনি। এই কাজ করে যা পান তা দিয়েই সংসার চলে দুঃখে কষ্টে। কেন্দুয়া উপজেলা রবিদাস সম্প্রদায় সমিতির সভাপতি সুনিল রবিদাস বলেন, সাহেব এই উপজেলায় আমাদের সম্প্রদায়ের ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আছে। আমরা জুতা পালিশ মেরামত করে রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজেই পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। ছেলে মেয়েদের ভালো লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে করাতে পারছিনা। আবার অনেকেরই নাই নিজস্ব বসতবাড়ী। অন্যের বাড়িতে বা রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় অস্থায়ী ভাবে ঘর তুলে আমরা বসবাস করছি। সুনিল রবিদাস বলেন, আমরা ভোট দেই, আমাদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়, এম.পি, মন্ত্রীও হয়, সরকার পরিবর্তন হয়, সরকার দেশের সব মানুষের উন্নয়নও হয়, কিন্তু আমরার ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। তিনি বুকভরা আশা প্রকাশ করে বলেন, “বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের অনেক উন্নয়ন করেছেন। শেখ হাসিনার নজরে এলেই আমাদের জীবনের অনেক উন্নতি হবে। কিন্তু আমরার কথা কে তাঁর কাছে জানাবে? আমরার কথা কেউ বলে না, কেউ লিখে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের ভাগ্যের উন্নয়নের দাবী জানাই।”