কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু

কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর এলাকায় দিগদাইর মহল্লায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে ঝুলে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে নূরে আলম (২০) নামের এক বিদ্যুৎ কর্মির। বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নিয়তির কাছে হেরে গেল তার জীবন। এ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বেলা অনুমান পৌনে ২টার দিকে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দিগদাইর পূর্বপাড়া মসজিদের সামনে ট্রান্সফরমার লাগাতে যায় বিদ্যুৎ কর্মী নূরে আলম (২০) তার বাবার নাম আব্দুল কদ্দুস, বাড়ি আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের মঙ্গলসীধ আমাটি গ্রামে। ঠিকাদার জীবন কৃষ্ণ সরকারের অধীনে ৫/৬ জন লোক বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার লাগাতে আসছিল এখানে। ঠিকাদার জীবন কৃষ্ণ সরকার বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তার লোকজন দিগদাইর হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের খুটির তার থেকে লাইন বন্ধ করে কাজ শুরু করে। ঘন্টা ব্যাপী কাজ চলতে থাকলে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া অফিসের লোকজন এসে ওই লাইনের সংযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্গেই কর্মরত বিদ্যুৎ কর্মী নূর আলম বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যায়। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আক্তারুজ্জামান লস্করের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিগদাইর এলাকায় বিদ্যুতের কাজ করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কেউ কোন অনুমতি নেয়নি। কাজ করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ফরমে আবেদন দিলে আমরা সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কাজ শুরুর পর যতক্ষন কাজ শেষ না হয় ততক্ষন লাইন বন্ধ রাখি। তিনি বলেন, দিগদাইর এলাকায় লাইন বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা বার বার যোগযাগ করলে আমাদের অফিসের লোকজন গিয়ে লাইন সংযোগ দেয়। এই সংযোগ দেয়ার ফলেই বিদ্যুৎ কর্মী নূর আলমের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু আমাদের জানা ছিলনা যে এখানে কাজ চলছে। কেন্দুয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন খুটির তারে ঝুলে থাকা লাশ উপর থেকে নামিয়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান এ খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।  এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শত শত উৎসুক জনতার প্রশ্ন একটু ভুলের জন্য ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ, এর জন্য দায়ী কে ?