কেন্দুয়ায় আওয়ামীলীগ নেতার জোড়াতালির বসতঘরে ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি পরে

 কেন্দুয়ায় আওয়ামীলীগ নেতার জোড়াতালির বসতঘরে ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি পরে

মহসীন কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :  নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকারের জোড়াতালির বসতঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টি এলেই ঝরঝরিয়ে ঘরের মেঝ ভেসে যায়। এক কথায় বলা চলে বাইরে বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের চাল দিয়ে ঘরের ভেতরও ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। তিনি দলপা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি দায়িত্বে আছেন। সারা জীবন নৌকার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে সময় কাটিয়েছেন তবুও তার কোন ক্লান্তি আসেনি। কিন্তু নিজের জন্য চাওয়াটা এবং চেয়ে না পাওয়াটা খুব অসম্মানের মনে করেন তিনি। আওয়ামীলীগের দুঃসময়েও তিনি অনেক লড়াই সংগ্রাম করে তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ১৯৯৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্টিত হওয়ার পর রাতে ভালো ঘুম হয়েছে। এর পর ২০০১ সালে বি.এন.পি জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর তার ওপর চলে অনেক নির্যাতন ও হুমকী ধমকী। দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই তাকে হুমকী ধমকীর স্বীকার হতে হয়েছে। তবু তিনি নৌকার হাল ছাড়েননি। পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দায়িত্ব পালন কালে অসুখে বিসুখে সামান্য আর্থিক অনুদান পেয়েছেন তিনি। কিন্তু তার জোড়াতালির বসতঘরটিতে এখন আর বসবাসের যোগ্যতা নেই বললেই চলে। গত কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি ঘরের জন্য তার নাম লিখা হলেও পরবর্তীতে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। নাম লিখার পর বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই লজ্জা পেয়েছেন। ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, আমি চাইব কি? যেহেতু আমি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সেহেতু আমি আমার তৃণমূল নেতাদেরকে দেবার কথা। এ নিয়ে বেশি কথা বলা আমি লজ্জার মনে করি। তবে যদি আমার প্রিয় নেত্রী আমার দিকে সদয় হন, তিনি সহযোগিতা করলে আমি সাদরে তা মাথাপেতে নেব। সেদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকারের বাড়িতে নেই কোন পানিয় জলের ব্যবস্থা, নেই ভালো সৌচাগার। বসতঘরটি জোড়াতালি দিয়ে কোনমতে দুঃখ কষ্টের মধ্যেই দিন চলছে তার। চাষাবাদের কিছু জমি থাকায় তার এই জমির ফসল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভাতের অভাব হয় না। কিন্তু সংসার পরিচালনা করতে গিয়ে তাকে হিমশিম

খেতে হয়। তা ছাড়া হাতে যেসব টাকা পয়সা থাকে তা বেশিরভাগই দলের নেতাকর্মীদের পেছনে খরচ করেন তিনি। তিনি বলেন, যতদিন পৃথিবীতে বেঁেচ আছি ততদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের রাজনীতিই করব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, নৌকা আমার বাহন। নৌকাতে চড়েই জীবনের শেষ কিনারে যেতে চাই।