নেত্রকোনার হাওরে নদী ও খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নেত্রকোনার হাওরে নদী ও খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনা নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে নদী খাল খননে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

   হাওরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, হাওরাঞ্চলে বছরের / মাস পানি থাকায় তাদের একমাত্র ফসল হচ্ছে শুষ্ক মওসুমে বোরো ফসল। হাওরাঞ্চলের নদী খাল গুলো খনন না করায় প্রতি বছর পলি পড়ে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য আগাম বৃষ্টি পাহাড়ী ঢলে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল হলিয়ে যায়। হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে বর্তমান সরকার ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে  নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে একটি নদী ৫টি খাল খনন শুরু করে। নদী খাল খনন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় কৃষকরা নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদাররা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা দায়িত্ব অবহেলার সুযোগ নিয়ে অথবা ম্যানেজ করে সরকারী নিয়ম নীতি না মেনেই তাদের খেয়াল-খুশি মতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। সবচেয়ে বেশী অভিযোগ উঠছে সাপমারা খাল খননে। ঠিকাদাররা সময় মতো খাল খনন শুরু না করে বর্ষা আসার আগ মূহুর্তে খাল খনন শুরু করেছে। ভেকু ম্যাশিন দিয়ে খালের তলদেশ খনন না করেই পাড়ের মাটি কেটে পাড়েই ফেলা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব মাটি পুনরায় খালে গিয়ে পড়বে এবং খাল ভরাট হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন বৃষ্টি হওয়ায় খালের তলায় পানি জমেছে। এখন আর খালের তলদেশ খনন করতে হবে না। ঠিকাদাররা চাচ্ছে, নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সমুদয় অর্থ তুলে নেয়া। হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করলে কর্মকর্তা ঠিকাদাররা অভিযোগকারীদের নানা ধরণের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

      নেত্রকোনা কৃষক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনিছুর রহমান বলেন, প্রতি বছর সরকার হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষার জন্য নদী খাল খননের পাশাপাশি অকাল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। একদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা উদাসীনতা অপরদিকে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নামদারী ঠিকাদারদের অধিক মুনাফা লাভের কারণে সময় মতো সঠিকভাবে নদী খাল খনন এবং বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় আগাম বন্যা কৃষকের সর্বনাশ হয়ে যায়। ভেস্তে যায় সরকারের মহতি উদ্যোগ।

       স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গত শুক্রবার সাপমারা খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষনিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলে নদী খালগুলোতে পানি এসে যাওয়ায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামীতে পানি শুকালে বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারদেরকে বিল প্রদান করতে হবে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি পাওয়া গেলে এর সাথে জড়িত ঠিকাদারদেরকে কালো তালিকা ভুক্ত করারও আইন রয়েছে।

      নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, নদী খাল খনন প্রকল্পের কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এখনো কোনো বিল প্রদান করা হয়নি। প্রকল্পের কাজে অনিয়ম দুর্নীতির সাথে কোন ঠিকাদার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস প্রদান করেন।